CPA Marketing কি? সিপিএ মার্কেটিং এর লাভ ও উদাহরণ 2021

CPA Marketing (সিপিএ মার্কেটিং): মার্কেটিং (Marketing) শব্দটির সাথে কম বেশি সবাই পরিচিত। ইন্টারনেট জগতে অনেক প্রকার মার্কেটিং রয়েছে।

আজকাল যেকোনো কোম্পানি, ব্র্যান্ড বা পণ্য কে প্রচার করতে ডিজিটাল মার্কেটিং (Digital Marketing) প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি প্রক্রিয়া বা মাধ্যম হিসেবে বলা যায় CPA Marketing কে।

CPA মার্কেটিং কে আবার এফিলিয়েট মার্কেটিং এর একটি ভাগ হিসেবে ধরা হয়। যদিও দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। তবে CPA Marketing প্রক্রিয়াটি প্রায় Affiliate marketing এর মতই বলা যায়। আজকাল সিপিএ মার্কেটিং দ্বারা ইনকাম এর বিষয়টি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

আজকের আর্টিকেলে আমরা CPA Marketing মূলত কি, এটির লাভ বা কিভাবে শুরু করা যায় সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো। তবে চলুন তাহলে বিস্তারিত আলোচনায় ফিরে যাওয়া যাক।

 

CPA Marketing কি? (What is CPA Marketing)

CPA Marketing কি? সিপিএ মার্কেটিং এর লাভ ও উদাহরণ 2021

CPA মানে হচ্ছে “Cost Per Action“, অর্থাৎ এখানে আপনাকে ছোট ছোট কিছু টাস্ক (Task) পূরণ করে দিতে হবে যার বিনিময়ে আপনি কিছু কমিশন পেয়ে যাবেন।

আরেকভাবে বলতে গেলে, CPA Marketing হচ্ছে এক ধরনের advertisement model. অর্থাৎ যেকোনো প্রোডাক্ট বা সার্ভিস প্রচার এর একটি মাধ্যম। cpa মার্কেটিং কে এক প্রকার বিজনেস (business) হিসেবেও ধরা যায়।

সিপিএ মার্কেটিং অনলাইন মার্কেটিং এর একটি কৌশল, যেখানে একটি কোম্পানি তাদের নিজস্ব প্রডাক্ট বা ব্র্যান্ড প্রচার করতে যেকোনো ‘Advertiser’ বা ‘Publishers’ এর সাহায্য নিয়ে থাকে।

এইখানে কোম্পানি যেকোনো নির্দিষ্ট কাজ ধরে দিতে পারেন, যেমন; App Download, Form Fill up, Account Sign Up, Email Submission, Survey ইত্যাদি।

আর একজন পাবলিশার হিসেবে আপনাকে সেই কাজগুলো আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে আসা ট্রাফিক দ্বারা করিয়ে নিতে হবে। যার বিনিময়ে আপনি নির্দিষ্ট কিছু রেভিনিউ পাবেন।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ধরুন amazon কোম্পানি তাদের একটি নতুন অ্যাপ playstore এ নিয়ে এসেছে। এখন শুরুতে তাদের যেটির প্রয়োজন সেটি হচ্ছে অ্যাপটির ডাউনলোড এবং প্রচার বাড়ানো।

এখন আমাজন কোম্পানি তাদের উক্ত অ্যাপটির প্রচার করতে যেকোনো সিপিএ নেটওর্য়াক কিংবা সিপিএ মার্কেটপ্লসে সংযুক্ত হলো এবং তাদের প্রচার কাজের জন্য কিছু পরিমাণে টাকা দিল।

এবার একজন CPA মার্কেটার হিসেবে আপনি সে CPA মার্কেটপ্লেসে register করে, সেই অ্যাপটি আপনার নিজস্ব ব্লগ বা ওয়েবসাইট দ্বারা প্রচার করলেন। যার বিনিময়ে আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণে কিছু কমিশন আয় করলেন।

এক্ষেত্রে ধরুন অ্যাপটি একটি ডাউনলোড করার বিনিময়ে আপনি পেলেন ১ ডলার, সুতরাং অ্যাপটি যদি আপনি আপনার প্রচারণার মাধ্যমে ১০০ জনের দিয়ে ডাউনলোড করাতে পারেন তাহলে আপনি পেয়ে যাবেন ১০০ ডলার।

আর এইভাবেই ছোট ছোট টাস্কগুলো পূরণ করে আয় করার মাধ্যমটি হচ্ছে সিপিএ মার্কেটিং। আশা করি পুরো cpa marketing প্রক্রিয়াটি আমি আপনাদের বুঝিয়ে বলতে পেরেছি।

 

সিপিএ ও এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মধ্যে পার্থক্যঃ (Difference Of CPA & Affiliate Marketing)

শুরুতেই আমি আপনাদের বলছি, CPA Marketing হচ্ছে Affiliate marketing এরই একটি অংশ।

তাহলে এফিলিয়েট মার্কেটিং কি জিনিষ?

ধরুন, আপনি যেকোনো একটি কোম্পানি থেকে আপনার পছন্দের নিশ অনুযায়ী একটি প্রোডাক্ট বেছে নিলেন। প্রোডাক্টটি হতে পারে কসমেটিক, কাপড়, ঘড়ি কিংবা যেকোনো কিছু।

যেকোনো একটি প্রোডাক্ট বেছে নিয়ে আপনি সেটির মার্কেটিং বা প্রচার করলেন। এখন আপনার করা মার্কেটিং বা প্রচার দেখে যখন কোনো ক্রেতা আপনার প্রচার করা লিংকে গিয়ে উক্ত প্রোডাক্টটি ক্রয় করবে তখন আপনি সেই বিক্রির বিনিময়ে কিছু টাকা কমিশন হিসেবে পেয়ে যাবেন।

এখানে একটি বিষয় হচ্ছে, মার্কেটিং করলে আপনি কোনো কমিশন পাবেন না, আপনি তখনই কমিশন আয় করতে পারবেন যখন আপনার দ্বারা সেই প্রোডাক্ট বা পণ্যটি বিক্রি হবে। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং সিস্টেম।

অন্যদিকে, সিপিএ মার্কেটিং এর কথা যদি বলি, সেক্ষেত্রে এখানে আপনাকে কোনো প্রোডাক্ট সেল বা বিক্রি করা লাগবে না। আপনাকে শুধুমাত্র যেকোনো ধরে দেওয়া ছোট ছোট টাস্ক গুলোর মার্কেটিং করে অন্য করার মাধ্যমে করিয়ে নিতে পারলেই আপনি তার বিনিময়ে কমিশন আয় করতে পারবেন।

ধরে দেওয়া টাস্ক টি যদি কোনো অ্যাপ ডাউনলোড নিয়ে হয় তাহলে আপনার মার্কেটিং করা লিংকে গিয়ে যখন কেও সেই অ্যাপটি ডাউনলোড করবে তখন সাথে সাথে আপনি তার বিনিময়ে ধার্য করা নির্দিষ্ট রেভিনিউ বা ডলার পেয়ে যাবেন।

cpa মার্কেটিং এর অফার গুলো কেমন হয় বা কি ধরনের অফার আপনি পাবেন কাজের জন্য এটা নিয়ে কিছুটা ধারণা দেই আপনাদেরঃ

cpa marketplace গুলোতে যখন আপনি cpa অফারগুলো দেখবেন তখন লক্ষ করবেন সেখানে CPL/PPL, CPS/PPS বা Revenue Share অফারগুলো লেখা থাকবে।

একটি নির্দেশাবলী দেওয়া থাকবে অফারটি সম্পর্কে। এখানে CPL এর মানে হচ্ছে ‘Cost Per Lead’ অথবা PPL এর মানে হচ্ছে ‘Pay Per Lead’, CPL ও PPL দুটোই মূলত এক জিনিষ।

আর CPS এর মানে হচ্ছে ‘Cost Per Sale’ অথবা PPS এর মানে হচ্ছে ‘Pay Per Sale’, CPS এবং PPS বিষয় দুটিও একই।

CPL বা PPL হচ্ছে, cpa marketplace থেকে নেওয়া আপনার যেকোনো ছোট ছোট টাস্ক যখন আপনি মার্কেটিং করার দ্বারা যেকারো মাধ্যমে করিয়ে নিতে পারবেন তখন সেটিকে বলা হবে CPL/PPL, অর্থাৎ ছোট ছোট কাজ করার মাধ্যমে আপনার লিড আসতেছে।

আর CPS/PPS অফারটি হচ্ছে মূলত এফিলিয়েট প্রক্রিয়ার মতোই। অফারটি নিয়ে যখন আপনি প্রচার বা মার্কেটিং করবেন তখন আপনার সেই প্রচার করা লিংকে গিয়ে যখন কেও উক্ত পণ্যটি কিনবে তার বিনিময়ে নির্দিষ্ট কমিশন আপনি আয় করতে পারবেন। সেল এর বিনিময়ে এখানে আপনি রেভিনিউ পাবেন।

এবার আসা যাক Revenue Share এর বিষয়ে।

 

Revenue Share কি?

ধরুন, একটি কোম্পানি তাদের যেকোনো একটি ‘Service’ বের করেছে। যেটির মার্কেটিং আপনাকে করতে হবে।

আপনি যে তাদের কোম্পানির সেই সার্ভিসটি কাস্টমারের কাছে পৌঁছায় দিচ্ছেন, বা প্রচার করছেন, তাহলে আপনার মাধ্যমে যদি কেউ উক্ত সার্ভিস কিনে সেটি থেকে আপনার রেভিনিউ আয় হবে।

অর্থাৎ আপনার করা মার্কেটিং দ্বারা যখন কেও উক্ত Service নিবে, তখন আপনি উক্ত Service এর বিনিময়ে ১০% বা ১৫% কমিশন পাবেন। ( কমিশন কত % সেটি নির্ভর করবে উক্ত সার্ভিস এর উপর)

এক্ষেত্রে সার্ভিসটির মূল্য যদি ১০০ ডলার হয়, তাহলে আপনি সেটির উপর ধার্য করা কমিশন লাভ করবেন।

তাহলে REVENUE SHARE এর ক্ষেত্রে তফাৎ কি?

এখানে তফাৎ হচ্ছে কেউ উক্ত সার্ভিস ক্রয় করার সময় আপনি ধরুন ১০% কমিশন পেয়ে গেলেন, এখন সার্ভিসটির মেয়াদ যদি ১ বছর হয়, তাহলে ১ বছর পর যদি সেই ক্রেতা সার্ভিসটি রিনিউ করে তাহলে সেই রিনিউ করার বিনিময়ে আপনি আবারও ১০% কমিশন পেয়ে যাবেন।

এইভাবে ক্রেতা যতদিন সেই সার্ভিসটি ব্যবহার করবে ততদিন আপনি তার বিনিময়ে রেভিনিউ পাবেন।

আশা করি cpa অফারগুলো আপনার কাছে কিভাবে আসবে সে বিষয়টি আপনি বুঝে গিয়েছেন।

ট্র্যাফিক বা ভিজিটর

cpa মার্কেটিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ট্রাফিক বা ভিজিটর। এখন ট্র্যাফিক বা ভিজিটর কি?

ধরুন, আপনি একটি ব্লগ কিংবা ওয়েবসাইট আছে, যেখানে আপনি রেগুলার কনটেন্ট পাবলিশ করলেন। এখন ,আপনার সে কনটেন্ট গুলো পড়ার জন্য ধরুন দৈনিক আপনার সাইটে ১০০ জন লোক আসে। এই ১০০ জনকে বলা হয় ট্রাফিক কিংবা ভিজিটর।

ব্লগ/ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে যেমন সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হচ্ছে ট্রাফিক, তেমনি মার্কেটিং এর ক্ষেত্রেও গুরুত্তপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ট্রাফিক। কিন্তু কেনো এত গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক?

ধরুন, আপনি cpa marketing এর একটি অফার সিলেক্ট করেছেন। এখন নিশ্চই আপনাকে অফারটির মার্কেটিং করতে হবে। তাহলে ট্রাফিক যদি না থাকে মার্কেটিং বা প্রচার করবেন কার কাছে?

এইজন্যই আমাদের ট্রাফিক বা ভিজিটর জেনারেট করতে হয়। ভিজিটর আপনি দুইভাবে জোগাড় করে পারেন একটি ফ্রি ভিজিটর অন্যটি হচ্ছে পেইড ভিজিটর।

Free Visitor কি?

ফ্রি ভিজিটর মানে হচ্ছে যে ভিজিটরগুলো আপনি ফ্রিতে পাবেন। অর্থাৎ কোনপ্রকার খরচ ছাড়া আপনি ফ্রি ট্রাফিক জেনারেট করতে পারবেন কিছু টেকনিক এর মাধ্যমে।

কিভাবে পাবেন Free Visitor?

SEO: SEO মানে হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (Search Engine Optimization)। ট্রাফিক বা ভিজিটর আনার ক্ষেত্রে এসইও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা যখন সার্চ ইঞ্জিনে কিছু লিখে সার্চ করি তখন প্রথম ১০ টি রেজাল্ট আমাদের সামনে দেখানো হয়। কখনো কি ভেবে দেখেছেন? ১০ নম্বরে দেখানো সাইটটি কেনো এক নম্বরে নেই, আর ১ নম্বরের সাইটটিকে কেনো ১ নম্বরে দেখানো হচ্ছে?

এসইও ফর্মুলা প্রয়োগ করে ১ নম্বরের সাইটটি প্রথম স্থান দখল করেছে। যেহেতু সে এক নম্বরে আছে, তাই অন্য সবার তুলনায় তার সাইটে বেশি ট্রাফিক অবশ্যই যাবে।

সঠিকভাবে এসইও করার মাধ্যমে আপনি হাজার থেকে লক্ষ লক্ষ ট্রাফিক অনায়াসে নিয়ে আসতে পারবেন আপনার সাইটে। আজ নানান ব্লগ/ ওয়েবসাইটের মালিকরা শুধুমাত্র এসইও করার মাধ্যমে তাদের সাইটে ভিজিটর নিয়ে আসতে পারছে।

Social media: সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমরা বুঝি Facebook, Twitter, Instagram ইত্যাদি। এসকল সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে শুধুমাত্র একটি অ্যাকাউন্ট বানিয়ে এখান থেকে আপনি প্রচুর ট্রাফিক পেতে পারেন।

কারণ বর্তমানে ছোট বড় সকল শ্রেণীর মানুষ এই সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে সক্রিয় থাকে।

Blog Posting: ব্লগ পোস্টিং মানে হচ্ছে ব্লগে পোস্ট করার মাধ্যমে ট্রাফিক জেনারেট করা। ধরেন “A” অনেক জনপ্রিয় একটি ব্লগ ওয়েবসাইট, এই সাইটে আপনি একটি আর্টিকেল লিখতে সুযোগ পেলেন।

এক্ষেত্রে ধরুন আপনি হেয়ার ড্রায়ার রিভিউ নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখলেন। আর্টিকেলের একদম শেষে গিয়ে আপনি একটি ছোট লিংক দিলেন, এবং লিখে দিলেন যে উক্ত হেয়ার ড্রায়ার ক্রয় করতে হলে এই লিংকে ক্লিক করে কিনতে পারবেন।

এখন “A” ওয়েবসাইটে আসা ট্রাফিক থেকে যদি কেউ ঐ লিংক ক্লিক করে আপনার অফারটি কিনে তাহলে আপনার CPA আয় অবশ্যই হচ্ছে। এটাই মূলত ব্লগ পোস্ট করে ফ্রি ট্রাফিক আনার প্রসেস।

তাহলে Paid Traffic কি?

যখন আপনি আপনার কাঙ্খিত পণ্যটির বিজ্ঞাপন বা প্রচার এর ক্ষেত্রে ডলার ব্যয় করছেন ট্রাফিক আনার উদ্দেশ্যে তখন সেই প্রচার এর মাধ্যমে আসা ট্রাফিক বা ভিজিটরকে বলা হবে পেইড ট্রাফিক।

কিভাবে পেইড ট্রাফিক পাবেন?

পেইড ট্রাফিক আপনি অনেক ভাবে পেতে পারেন। সেটি হতে পারে PPC ( Pay Per Click), PPV (Pay Per View), বা Banner ads এর মাধ্যমে।

এখানে মূল বিষয় হচ্ছে ডলার এর বিনিময়ে আপনি আপনার পণ্যের প্রচার কাজ চালাতে পারবেন।

cpa করার ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে কিছু ভুল কাজের ধারণা আছে।

যেমন ধরুন আমরা যেকোনো সিপিএ নেটওয়ার্ক থেকে একটি অফার বেছে নিলাম। অফারটির শর্ত হচ্ছে এটির মার্কেটিং বা প্রচার শুধুমাত্র US কান্ট্রিতে করতে হবে। অন্য কোথাও এর প্রচার করা যাবে না।

এক্ষেত্রে অনেকে ভাবেন যে নিজেই অফার নিয়ে নিজেই অফারটি কমপ্লিট করবেন VPN অথবা VPS এর সাহায্য নিয়ে। অর্থাৎ নিজের মার্কেটিং করা লিংকে গিয়ে নিজেই অফারটি পূরণ করবেন যার জন্য আপনি কমিশন আয় করতে পারবেন।

এই ধরনের চিন্তা বা এই ধরনের ভুল একদমই করা যাবে না। ধরুন, আপনি একটি অ্যাপ ডাউনলোড এর অফার নিলেন প্রচার করতে। এখন আপনার প্রচার করা লিংক দিয়ে আপনি নিজেই অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিলেন আপনার আইপি হাইড করে, কান্ট্রি লোকেশন বদলে।

এই কাজটি করার ফলে আপনি কোনো প্রকার ডলার তো পাবেন না উল্টো আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যান করা হবে। সারাজীবনের জন্য আপনি চাইলেও উক্ত মার্কেটপ্লেসে আর অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন না। আপনাকে ব্লক করে দেওয়া হবে উক্ত মার্কেটপ্লেস থেকে।

সুতরাং সিপিএ মার্কেটিং এর কাজ করতে হলে আপনাকে একদমই লিগ্যাল উপায়ে কাজগুলো সম্পূর্ণ করতে হবে। এখানে আপনি কোনো প্রকার অসদুপায় অবলম্বন করে কাজ করতে পারবেন না, করলেও অবশ্যই ধরা খেয়ে যাবেন।

কারণ আপনি একজন এই মার্কেটপ্লেসে কাজ করবেন, কিন্তু আপনার মত আরো অসংখ্য সিপিএ মার্কেটার সেখানে কর্মরত আছে যাদের কন্ট্রোল করছে মার্কেটপ্লেসটি। তাহলে অবশ্যই আপনার তুলনায় তারা বেশি চালাক।

 

সিপিএ মার্কেটিং এর লাভ কি?

অন্যান্য মার্কেটিং তুলনায় সিপিএ মার্কেটিং দ্বারা সহজেই আপনি আয় করতে পারবেন। এতে অনেক ধরনের লাভ রয়েছে।

যদি আপনার একটি নিজস্ব ব্লগ না ওয়েবসাইট থাকে তাহলে cpa marketing আপনার জন্য অনেকটা লাভজনক হতে পারে। কারণ ব্লগ/ওয়েবসাইটের দ্বারা আপনি সহজেই cpa অফার এর মার্কেটিং কাজ চালাতে পারবেন।

এছাড়াও cpa সেক্টরে আরো অনেক ধরনের লাভ রয়েছে। যেমন;

সিপিএ মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ছোট ছোট কিছু Task বা Action পূরণ করেই আপনি বেশ ভালো অর্থ আয় করার সুযোগ পাবেন। এখানে আপনি অনেক ধরনের অফার পাবে, আপনার পছন্দের ইচ্ছা মত যেকোনো একটি অফার বেছে নিয়ে আপনি সেটির মার্কেটিং করতে পারবেন। আর cpa অফারগুলো অনেক সহজেই অন্য কারো দ্বারা করিয়ে নেওয়া যায়। এখানে আপনি form fill up, app install, account sign up, registration, rate & review, survey এর মত ছোট ছোট কাজগুলো সহজে পূরণ করতে পারবেন।

CPA তে কোনো ধরনের পণ্য বিক্রির ঝামেলা ছাড়াই আপনি এখান থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

অনেক সহজে কনভারসেশন হওয়ার সুযোগ থাকে CPA Marketing এর ক্ষেত্রে।

তাছাড়াও সিপিএ মার্কেটিং এর আরো অনেক সুবিধা আছে। এখানে একটি বিষয় হলো, যেকোনো cpa network register করার পর, সেখান থেকে যেকোনো অফার বেছে নিন। এরপর আপনার নিজস্ব মার্কেটিং প্লাটফর্ম এ আসা ট্রাফিক দ্বারা সেগুলো করিয়ে নিন।

আর এই সেক্টরে কোনো ধরা বাধা নেই, যেকোনো ব্যাক্তি এই কাজটি শুরু করতে পারে।

 

CPA Marketing কাজের কিছু উদাহরণঃ

  • Software, App বা Extension অন্য কারোর মাধ্যমে ডাউনলোড করানো।
  • সার্ভে (Survey) সম্পূর্ণ করা।
  • যেকোনো অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইটে Sign Up করানো।
  • Form Fill up করা সহ আরো ইত্যাদি।

 

CPA মার্কেটিং করতে হলে কি কি দরকার?

যারা এফিলিয়েট মার্কেটিং করছেন তারা নিশ্চই জানেন এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে কি কি দরকার হয়। এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে যা যা দরকার সে সকল কিছু সিপিএ মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়।

যেমনঃ

  • আপনার একটি ইমেইল একাউন্ট থাকা লাগবে।
  • একটি ভালো CPA Marketplace এর সাথে যুক্ত হতে হবে।
  • প্রথমত, একটি Blog, Website, Application, YouTube অথবা অন্য যেকোনো সোশ্যাল প্লাটফর্ম থাকা লাগবে আপনার।
  • আপনার প্রচার এর মাধ্যমটিতে ভালো পরিমাণে ট্রাফিক বা ভিজিটর থাকা লাগবে। কেননা ভিজিটর না আসলে আপনি প্রচার করবেন কার কাছে।
  • আপনার কাঙ্খিত ব্লগ, ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপ্লিকেশনে আসা ভিজিটরদের আপনার action পূরণ করিয়ে নেওয়ার জন্য আগ্রহী করে তুলতে হবে। যেকোনো কনটেন্ট এর দ্বারা এটি আপনারা করতে পারেন।
  • প্রতিদিন ৪-৫ ঘণ্টা সময় দিতে হবে।

এখানে যদি আপনি কাজ করতে চান তাহলে আপনার সময়ের পাশাপাশি ধৈর্য থাকা লাগবে, তাহলেই আপনি ভালো কিছু করতে পারবেন।

 

CPA Marketing করে কি পরিমান অর্থ আয় করা যায়?

CPA দ্বারা আপনি কত টাকা আয় করতে পারবেন সেটি সম্পূর্ণ আপনার কাজের উপর নির্ভর করবে। এমনিতে একজন প্রফেশনাল cpa marketer প্রতি মাসে ৪০ – ৫০ হাজার টাকা কিংবা তার থেকেও আরো অধিক অর্থ আয় করতে পারেন।

শুরুতে আপনি হয়তো এত বেশি টাকা আয় করতে পারবেন না। কিন্তু ধীরে ধীরে আপনি যত ভালো কাজ করতে করবেন আপনার ইনকাম পরিমান ও তত বৃদ্ধি পাবে।

এখানে অর্থের পরিমাণ নির্ভর করে আপনি কতটা ভালো কাজ করতে পারবেন তার উপর। কিন্তু তবুও একটা ধারণা আমি আপনাদের নিচে দিয়ে দিচ্ছি।

CPA মার্কেটিং দ্বারা প্রতিটি task বা action থেকে দৈনিক গড়ে $1 – $5 ডলার আয় হয়। এটা আপনি গড়ে হিসাব করতে পারেন, কারণ কিছু action এর ক্ষেত্রে এর কম আছে আবার এর থেকে অনেক বেশি ও আছে।

এখন ধরুন এক দিনে আপনি অনেক মার্কেটিং এর কাজ করলেন, তবুও আপনার action পূরণ হলো ৫ টি।

প্রতিটি action পূরণ করে আপনার গড়ে আয় ধরুন ২ ডলার এবং আপনার প্রতিদিন গড়ে action পূরণ হয় ৫ টি। তাহলে প্রতি মাসে আপনার ইনকাম হবেঃ

৫ টি টাস্ক × ২ ডলার = ১০ ডলার ( দৈনিক গড়ে একদিনের আয়)

৩০ দিন × ১০ ডলার = ৩০০ ডলার অথবা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৫ হাজার টাকার মতো।

প্রতিদিন যদি আপনি গড়ে ৪-৫ ঘণ্টা সময় cpa কাজের ক্ষেত্রে ব্যয় করেন তাহলে আপনার ২৫ হাজার টাকা আয় করাটা খুব বেশি কঠিন হবে না।

প্রথমে যেটি বলেছি, আয়ের পরিমাণ আপনার উপরে নির্ভর করে। আপনি কি পরিমাণে সময় এখানে দিচ্ছেন এবং আপনার কাজ কেমন হচ্ছে। আপনার ক্রিয়েটিভিটি যত বেশি ভালো হবে আপনার আয় তত বেশি হবে।

CPA Payment Method

যেকোনো cpa network তে যুক্ত করে অফার বেছে নিয়ে কাজ করা নাহয় শুরু করে দিলেন, কিন্তু কাজের টাকাটা কিভাবে পাবেন?

এমনিতে সিপিএ মার্কেটপ্লেস গুলোতে পেমেন্ট মেথড হিসেবে থাকে Paypal, Payoneer, Bank Transfer ইত্যাদি। তবে বাংলাদেশে Payoneer Payment Method বেশি জনপ্রিয়।

YouTube video

আমার শেষ কথা

CPA মার্কেটিং হোক বা অন্যান্য মার্কেটিং একটা বিষয় আপনাকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে, প্রতিনিয়ত সকল কিছুর সাথে নিজেকে আপডেট রাখতে হবে। কেননা, সময়ের সাথে সাথে marketing Policy অবশ্যই পরিবর্তন হতে থাকবে।

আপনি তখনই একজন ভালো সিপিএ মার্কেটার হয়ে উঠতে সক্ষম হবেন যখন আপনি নতুন নতুন টেকনিক আপনার কাজে এপ্লাই করতে পারবেন। আর এর জন্য আপনাকে বেশি বেশি রিসার্চ করতে হবে, শিখতে হবে ও জানতে হবে।

আপনি হয়তো cpa কিভাবে করবেন সেটা কোনো ইনস্টিটিউট বা প্রাইভেট টিউটর থেকে শিখে নিলেন, কিন্তু যে ইনস্টিটিউটে আপনি যান, কিংবা যার কাছেই cpa শিখতে যাবেন তারা কিন্তু আপনাকে একদম সব কিছু হতে কলমে দেখিয়ে দিবে না।

এধরনের প্লাটফর্মে সফল হতে হলে আপনাকে নিজের ক্রিয়েটিভিটি দেখাতে হবে।

এখন যদি আপনার মাথায় প্রশ্ন আসে যে কেনো আমি cpa marketing শিখবো? তাহলে সহজ ভাষায় বলি, এই প্লাটফর্মে কাজ করতে হলে আপনার তেমন কোনো টেকনিকেল জ্ঞান থাকা লাগবে না, শুধুমাত্র নিয়মগুলো সম্পর্কে জেনে আপনি এখানে কাজ শুরু করতে পারেন।

অন্যান্য ইনকাম প্ল্যাটফর্মের থেকে অনেক বেশি সহজ এইখানে কাজ করাটা। পর্যাপ্ত সময় এবং ভালো মানসিকতা থাকলেই অবশ্যই আপনি এই প্লাটফর্মে ভালো কিছু করতে পারবেন।

কিন্তু একদমই নতুন অবস্থায় অনলাইন থেকে কিছু একটু জেনে সোজা এই সেক্টরে কাজ করতে আসলে আপনি কোনোদিন এটি করতে পারবেন না

তাই যদি আপনি cpa শুরু করতে চান তাহলে এটি সম্পর্কে ভালো আইডিয়া জেনারেট করে তারপর আসবেন এই সেক্টরে। তাহলে আজকে শেষ করছি এই পর্যন্তই, ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top