কম্পিউটার ভাইরাস কি? কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ, কারণ, প্রকার এবং ক্ষতি

কম্পিউটার ভাইরাস এই শব্দটি আমাদের মধ্যে অনেকেই শুনে থাকবেন এবং অনেকেই জানেন যে ভাইরাস আমাদের কম্পিউটার বা ল্যাপটপের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক আমরা সবাই কম্পিউটারের ব্যবহার সম্পর্কে জানি আর যারা কম্পিউটার ব্যবহার করেন তারা virus নামটি অবশ্যই শুনে থাকবেন

কম্পিউটার ভাইরাস কি? কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ, কারণ, প্রকার এবং ক্ষতি

ভাইরাস এই নামটি ইন্টারনেট জগতে খুবই পরিচিত একটি নাম এর সাথে সাথে এটি খুবই মারাত্মক নাম কারণ এটি আপনার কম্পিউটার আর অন্যান্য ইলেকট্রনিক গ্যাজেট এর জন্য খুবই ক্ষতিকারক অর্থাৎ যদি এটি একবার আপনার সিস্টেমের মধ্যে পৌঁছে যায় তখন এটি আপনার সিস্টেমকে খারাপ করে দিতে পারে আর সাথে আপনার ডাটা কে নষ্ট পর্যন্ত করতে পারে

ঠিক যেমন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভাইরাস ঠিক নয় আর এটি আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়ায় ঠিক সেইভাবে ভাইরাস কম্পিউটার সিস্টেমের বিভিন্ন ক্ষতি করে এইজন্য প্রত্যেকটি কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের এই বিষয়ে জেনে রাখা খুবই ভালো

কম্পিউটার ভাইরাস সম্পর্কে অনেক মানুষ কিছু না কিছু জানেন এটি কি আর এটি কি করে কিন্তু এমন অনেক মানুষ আছেন যারা ভাইরাসের নাম শুনেছেন কিন্তু এই ভাইরাস আপনাদের কম্পিউটারে কি কি ক্ষতি করে এই বিষয়ে তাঁরা জানেন না

এই জন্য আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি আপনাদের ভাইরাস কি আর ভাইরাস থেকে কিভাবে আপনার কম্পিউটারকে রক্ষা করবেন এই পদ্ধতি সম্পর্কে বলব আশা করছি আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ার পর আপনারা অনেক কিছু জানতে পারবেন

 

কম্পিউটার ভাইরাস কি? Whats is Computer Virus In Bangla

কম্পিউটার ভাইরাস একটি ছোট সফটওয়্যার প্রোগ্রাম যেটি আপনার কম্পিউটারের অপারেশনকে আর কম্পিউটারের ডাটা কে ডিলিট করতে বা ক্ষতি করার জন্য তৈরি করা হয়েছে

কম্পিউটার ভাইরাস আমাদের অজান্তেই সিস্টেমকে এমন ভাবে নষ্ট করতে পারে যেটি ঠিক করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় কম্পিউটার বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রোগ্রামের সাহায্যে চালানো হয় তাই কোন প্রোগ্রাম ছাড়া কম্পিউটার কাজ করতে পারে না

সফটওয়্যার প্রোগ্রাম কম্পিউটারকে সঠিকভাবে চালনা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে আর কিছু প্রোগ্রাম কম্পিউটারের কাজকে নষ্ট করার জন্য তৈরি করা হয়েছে

কম্পিউটারের আবিষ্কার মানুষ করেছেন, কম্পিউটার চালানোর জন্য প্রোগ্রাম তৈরি করেছে মানুষেরা আর আমি আপনাদের আগেই বলেছি ভাইরাস একটি ছোট প্রোগ্রাম এটিও মানুষেরাই বানিয়েছেন কম্পিউটার ভাইরাস প্রাকৃতিক নয় এটি নিজে থেকে তৈরি হয় না এটি প্রোগ্রামাররা জেনে-বুঝে তৈরি করে যাতে তারা অন্যের কম্পিউটার নষ্ট করতে পারে 

বা আমরা এটাও বলতে পারি যে ভাইরাস আসলে কম্পিউটার প্রোগ্রাম যেটি উৎপাদনশীলের(productive) চেয়ে ধ্বংসাত্মক(destructive) এটির মূল উদ্দেশ্য সহায়তা প্রদানের জায়গায় ক্ষতিসাধন করা

কম্পিউটার ভাইরাস এর ইতিহাস

Robert Thomas প্রথম ইঞ্জিনিয়ার যিনি 1971 সালে BBN Technologies এ কাজ করার সময় সর্বপ্রথম কম্পিউটার ভাইরাস কে develop করেছিলেন 

এই প্রথম ভাইরাসের নাম রাখা হয়েছিল “Creeper” ভাইরাস আর এটি একটি experimental প্রোগ্রাম যেটি Thomas নিজেই ARPANET এর mainframes কে সংক্রমিত করার জন্য করেছিলেন এই ভাইরাস সিস্টেমকে সংক্রমিত করার পর নিম্নলিখিত বার্তাটির স্ক্রিনে প্রদর্শিত হয়েছিল “I’m the creeper: Catch me if you can.”

যে original wild computer virus কে সর্বপ্রথম track করা হয়েছিল পুরো কম্পিউটার ভাইরাসের ইতিহাসে সেটি হল “Elk Cloner” এই Elk Cloner প্রথম Apple II অপারেটিং সিস্টেমকে সংক্রমিত করেছিল তাও আবার floppy disks এর মাধ্যমে এই ভাইরাসকে 1982 সালে Richard Skrenta ডেভেলপ করেছিলেন তিনি সেই সময় একজন teenager ছিলেন

যদিও কম্পিউটার ভাইরাস কে prank হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছিল তবুও এর থেকে বোঝা যায় একটি malicious program কেহ যদি কোন কম্পিউটারের মেমোরিতে ইন্সটল করে দেওয়া হয় তাহলে এটি অনেক কাজ করতে পারে যেমন ইউজার সিস্টেমকে চালাতে পারবে না আর তাদের এই malicious program এর ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না

এই Malicious Program কে কম্পিউটার ভাইরাস নামটি দেওয়া সর্বপ্রথম ব্যক্তি হলেন Fred Cohen ইনি 1983 সালে এই নামটি দিয়েছিলেন এই নামটি তখন প্রকাশিত হয় যখন তিনি academic paper এ এই প্রোগ্রামের নামের titled দিয়েছিলেন “Computer Viruses – Theory and Experiments” সেখানে তিনি এই malicious program এর সম্বন্ধে সমস্ত তথ্য লিখেছিলেন যেমন এটি কিভাবে কাজ করে আর এটি কি কি করতে পারে ইত্যাদি

 

কম্পিউটার ভাইরাস কি কি করতে পারে?

Computer Virus কম্পিউটারে উপস্থিত ডাটাকে corrupt বা ডিলিট করতে পারে আপনার হার্ডডিস্কে স্টোর কোরে রাখা ডাটাকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলতে পারে কম্পিউটার ভাইরাস e-mail attachments এর মাধ্যমে অন্যের কম্পিউটারে গিয়ে তাদের কম্পিউটারকে খারাপ করে

ভাইরাস আপনার কম্পিউটারের গতিকে কমিয়ে দেয় এটি আপনার কম্পিউটারে থাকা ফাইল আর প্রোগ্রাম কে নষ্ট করে দেয়

 

Malware কি?

Malware এর পুরো নাম হল Malicious Software এটি একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম এটি কম্পিউটারের ক্ষতি করে Malicious Software এর অর্থ হল খারাপ সফটওয়্যার যা মোটেই ভালো নয় আর এটি যদি একবার আপনার সিস্টেমে পৌঁছে যায় তাহলে এটি আপনার সিস্টেমকে সম্পূর্ণভাবে খারাপ করে দিতে পারে

Malware একটি ভাইরাস এর নাম যা আপনার সিস্টেমের ডাটাকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে

Malware আমাদের কম্পিউটারে কোথা থেকে আসে Malware আমাদের সিস্টেমে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসতে পারে আর সর্বাধিক ব্যবহৃত এবং প্রচলিত মাধ্যম ইন্টারনেট থেকে

ইন্টারনেট থেকে আমরা প্রতিদিন কিছু না কিছু তথ্য সংগ্রহ করি আর যদি আমরা সেই তথ্য সংগ্রহ করার জন্য কোন malicious ওয়েবসাইটে চলে যাই বা কোন pirated software, games আর movies ডাউনলোড করে নি তাহলে সেখান থেকে Malware অনলাইনে আমাদের কম্পিউটারে চলে আসে 

এটি ছিল অনলাইনে malware আমাদের কম্পিউটারে কিভাবে আসে এই সম্বন্ধে, এবার আমরা জানবো অফলাইনে malware আমাদের কম্পিউটারে কিভাবে আসে

আমরা সবাই আমাদের কম্পিউটারে Pendrive, CDs, DVDs এর ব্যবহার করি আমরা অন্য জায়গা থেকে ডাটা সংগ্রহ করার জন্য যখন Pendrives আর CDs কে আমাদের কম্পিউটারে কানেক্ট করি তখন malware ওই সমস্ত জিনিস থেকে আমাদের কম্পিউটারে চলে আসে আর আমাদের কম্পিউটারের ডাটা কে নষ্ট করে দেয়

 

Malware এর প্রকারভেদ

Malware তিন প্রকারের হয় – Virus, Worms আর Trojan horse এই তিনটি malware আলাদা আর এদের কাজও আলাদা আলাদা এই তিনটি আলাদা আলাদাভাবে আপনার কম্পিউটারকে নষ্ট করে

 

ভাইরাস কি?

ভাইরাস আপনার কম্পিউটারে উপস্থিত ফাইল আর সফটওয়্যার কে corrupt করতে পারে ধরে নিন আপনার সিস্টেমে একটি word এর ডকুমেন্ট রয়েছে আর সেটিতে ভাইরাস পৌঁছে গিয়েছে তাহলে এটি আপনার ডকুমেন্টের ডাটাকে ডিলিট করে দেবে বা সেই ডকুমেন্টকে corrupt করে দেবে এর ফলে আপনি ওই ডকুমেন্টের কোন তথ্য পাবেন না

বা এরকম হতে পারে ভাইরাস আপনার word processing সফটওয়্যার কে সম্পূর্ণভাবে corrupt করে দেবে এই ক্ষেত্রে যদি আপনি সেই corrupted ফাইলকে অন্য কারো সাথে শেয়ার করেন তাহলে এই ভাইরাস অন্যের কম্পিউটারে গিয়ে তার সিস্টেমকে খারাপ করে দিতে পারে

 

ভাইরাসের প্রকার

কম্পিউটার ভাইরাস এক প্রকারের malware এটি যদি আপনার কম্পিউটারের মেমোরিতে একবার পৌঁছে যায় তাহলে এটি নিজে থেকে multiply করতে পারে আর প্রোগ্রাম, এপ্লিকেশন কে পরিবর্তন করতে পারে

এই malicious code গুলি যখন নিজেরাই replicate(প্রতিলিপি) করে তখন কম্পিউটারে সংক্রমণ ঘটে এবার আমি আপনাদের এই কম্পিউটার ভাইরাসের প্রকার সম্পর্কে তথ্য প্রদান করব

Boot Sector Virus

এই ধরনের ভাইরাস master boot record কে সংক্রমিত করে আর এগুলি অপসারণ করা খুবই কঠিন এবং প্রায়শই এগুলিকে অপসারণ করার জন্য সিস্টেমকে format করতে হয় এটি মুখ্যভাবে removable media দ্বারা ছড়িয়ে পড়ে

Direct Action Virus

এগুলিকে non-resident ভাইরাসও বলা হয়, এটি একবার ইনস্টল হয়ে যাওয়ার পর এটি কম্পিউটারের মেমোরিতে লুকিয়ে থাকে এটি সেই নির্দিষ্ট ফাইলের সাথে সংযুক্ত হয়ে থাকে যেগুলিকে এটি সংক্রমিত করে এটি user experience আর system’s performance কে সংক্রমিত করে না

Resident Virus

Direct Action Virus এর মতই resident virus কম্পিউটারে ইন্সটল হয়ে যায় এছাড়া এগুলিকে সনাক্ত করা খুবই কঠিন

Multipartite Virus

এই ধরনের ভাইরাস বিভিন্ন পদ্ধতিতে সিস্টেমকে সংক্রমিত করে এগুলি একইসাথে boot sector আর executable files উভয়কে সংক্রমিত করে

Polymorphic Virus

এই ধরনের ভাইরাস কে সনাক্ত করা খুবই কঠিন একটি traditional anti-virus প্রোগ্রাম এর জন্য কারণ এই ভাইরাস বলেই যখনই নিজেদের replicate করে তখনই তাদের signature pattern টি প্রায়শই পরিবর্তন করে

Overwrite Virus

এই ভাইরাস তাদের সংক্রমিত সমস্ত ফাইলকে ডিলিট করে দেয় সিস্টেম থেকে এই ভাইরাস গুলি অপসারণ করতে ব্যবহারকারীদের সমস্ত সংক্রমিত ফাইলগুলিকে ডিলিট করে দিতে হবে যার ফলে data loss হয়

এই ভাইরাসকে সনাক্ত করা খুবই কঠিন কারণ এটি ইমেইলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে Spacefiller Virus – একে “Cavity Viruses” ও বলা হয় এটির এই নাম দেওয়া হয়েছে কারণ এটি code এর মধ্যে উপস্থিত সমস্ত spaces কে পূরণ করে এইজন্য এটি ফাইলের ক্ষতি করে না

File Infectors Virus

কিছু File Infectors Virus প্রোগ্রাম ফাইল এর সাথে সংযুক্ত হয়ে থাকে যেমন .com বা .exe files কিছু File Infectors Virus .sys, .ovl, .prg এবং .mnu এর মত ফাইলকে সংক্রমিত করে

যখন কোন নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম লোড হয় ঠিক তখন এই ভাইরাসটিও নিজে থেকে লোড হয়ে যায় এই ভাইরাসটি ইমেইলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কম্পিউটারে পৌঁছে যায় 

Macro Virus

এটির নাম দেখেই বোঝা যাচ্ছে এই Macro Virus মুখ্য ভাবে macro language commands কে লক্ষ্য করে যেমন কিছু অ্যাপ্লিকেশন এর মধ্যে Microsoft Word

এই Macro Virus কে এমন ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এটি সহজেই তার malicious code কে genuine macro sequences এ যুক্ত করতে পারে

Overwrite Virus

এই ভাইরাসটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এটি নিজেকে overwrite করে যে কোন ফাইল বা অ্যাপ্লিকেশন ডাটা কে ধ্বংস করতে পারে এটি একবার আক্রমণ শুরু করার পর নিজের code কে overwrite করা শুরু করে

Resident Virus

এই ভাইরাস নিজেকে কম্পিউটারের মেমোরিতে implant করে দেয় মূলত, সংক্রমিত করার জন্য original virus program এর প্রয়োজন হয় না যে কোন ফাইল বা প্রোগ্রামকে সংক্রমণ করার জন্য যদি আমরা কখনও original virus কে ডিলিট করে দিই তবুও এটির একটি ভার্সন মেমোরিতে স্টোর হয়ে থাকে যা নিজে নিজেই সক্রিয় হয়ে ওঠে

এটি তখনই ঘটে যখন computer OS কোন এপ্লিকেশন বা functions কে লোড করে কারণ এটি সিস্টেমের RAM এ লুকিয়ে থাকে এই জন্য এটিকে কোন এন্টিভাইরাস বা antimalware সনাক্ত করতে পারে না

Rootkit Virus

এই Rootkit Virus এক ধরনের malware এটি গোপনে একটি অবৈধ rootkit কে ইন্সটল করে দেয় সংক্রামিত সিস্টেমে এটি attackers দের জন্য একটি দরজা খুলে দেয় যাতে তারা সিস্টেমের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে

এতে attackers রা খুব সহজে মৌলিকভাবে যেকোন প্রোগ্রাম বা function কে modify বা disable করতে পারে এই Rootkit Virus খুব সহজে এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার কে bypass করতে পারে এগুলিকে ধরার জন্য Rootkit Scanner এর প্রয়োজন হয়

Worms কি?

Worms এক ধরনের ভাইরাস কিন্তু এটি নিজেরাই নিজেদের multiply করে আর নিজেরাই নিজেদের বেশি বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এর অর্থ হল যদি আপনার সিস্টেমে Worms পৌঁছে যায় তাহলে এটি বিভিন্ন ফাইলের অনেকগুলো copy তৈরি করতে শুরু করে দেয় এই কারণে সিস্টেম slow হয়ে যায়

যদি আমরা সেই ফাইলকে কপি করে অন্য কম্পিউটারের সাথে শেয়ার করি তাহলে Worms সেই কম্পিউটারে চলে যায় এবং সেই ফাইলটির অনেকগুলো copy তৈরি করে কম্পিউটারকে slow করে দেয়

Trojan Horse কি?

Trojan Horse একটি অত্যন্ত বিপদজনক malware এই malware আপনার কম্পিউটারে নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রাখে

উদাহরণস্বরূপ যদি আপনি ইন্টারনেটের ব্যবহার করছেন আর আপনি কোন ওয়েবসাইটে ভিজিট করছেন সেখানে আপনারা বিভিন্ন অ্যাড দেখতে পাবেন যেমন “click here to win smartphone” আর যদি আপনারা সেটিতে ক্লিক করে দেন তাহলে Trojan Horse malware আপনার কম্পিউটারে চলে আসবে আর আপনি এটির সম্পর্কে জানতে পারবেন না আর এটি আপনার সিস্টেমকে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেবে 

এটি বিভিন্ন সফটওয়্যারের রূপে ইন্টারনেটে উপস্থিত রয়েছে হয়তো আপনারা ভাবেন যে এটি একটি আসল সফটওয়্যার কিন্তু আসলে এটি একটি trojan এটি ওই সফটওয়্যার এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে আর যদি এটি একবার আপনার কম্পিউটারে পৌঁছে যায় তাহলে এটি আপনার কম্পিউটারকে slow হয়ে যায় এর সাথে সাথে এটি একটি দরজা খুলে দেয় যাতে আরও বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস আর worms আপনার কম্পিউটারে আসতে পারে

 

কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকলে কিভাবে বুঝবেন? (কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষন)

অনেক সময় এমন হয় সিস্টেমে ভাইরাস ঢুকে থাকে কিন্তু এর কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না বিভিন্ন ভাইরাসের লক্ষণ বিভিন্ন বিভিন্ন হতে পারে এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে ওই ভাইরাসের কাজের ওপরে এবং ওই ভাইরাসটিকে কি জন্য বানানো হয়েছে সেই বিষয়ের উপরে

উদাহরণস্বরূপ যদি আপনাদের কম্পিউটারে নিজে থেকেই বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে, আপনাদের কম্পিউটারের ব্রাউজারে pop-up পেজ খুলে যাচ্ছে, অটোমেটিক অন্যান্য ওয়েব পেজ বা ওয়েবসাইট খুলে যাচ্ছে তাহলে এটা সম্ভব যে আপনাদের কম্পিউটারে “Adware Virus” রয়েছে

এছাড়া অনেক সময় আপনাদের কম্পিউটার সিস্টেমের ভিতরে ভাইরাস নিঃশব্দে বসে থাকে এবং এটি আস্তে আস্তে আপনাদের সিস্টেম বা প্রোগ্রাম ফাইলগুলি এডিট করে তাতে নিজেদের কোড বসিয়ে দেয়

এই ক্ষেত্রে আপনি এই ধরনের ভাইরাস গুলিকে ধরতে পারবেন না কিন্তু সাধারণ কিছু অসুবিধা বুঝতে পারবেন যেমন কম্পিউটার নিজে থেকে রিস্টার্ট হয়ে যাওয়া, আপনাদের সিস্টেমটি অত্যাধিক হ্যাং হয়ে যাওয়া, এছাড়া বিভিন্ন এরর(error) মেসেজ দেখানো ইত্যাদি এই লক্ষণগুলি আপনাদের সন্দেহের কারণ হতে পারে

এগুলো ছাড়াও,

  • ইন্টারনেট স্লো হওয়া
  • কম্পিউটারটি অসাধারণ ভাবে কাজ করা
  • হঠাৎ করে কম্পিউটারটি কোন জায়গায় হ্যাং হয়ে যাওয়া
  • এছাড়া বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনগুলো হঠাৎ বা নিজে থেকে চালু বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • সিস্টেমের বিভিন্ন এরর দেখানো
  • হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যারে সমস্যা দেখা দেওয়া

এই ধরনের বিভিন্ন অসুবিধা গুলি যদি আপনারা আপনাদের কম্পিউটারে বুঝতে পারেন তাহলে এটি ভাইরাসের লক্ষণ হতে পারে

এছাড়া এগুলি ভাইরাসের লক্ষণ কিনা জানার জন্য আপনারা একটি কাজ করতে পারেন আপনারা আপনাদের কম্পিউটারে এন্টিভাইরাস ইন্সটল করে ওই অ্যান্টিভাইরাস এর মাধ্যমে আপনাদের কম্পিউটারটি স্ক্যান করে দেখতে পারেন যদি আপনাদের সিষ্টেমে কোন ভাইরাস থেকে থাকে তাহলে স্ক্যান করার মাধ্যমে সেটা ধরা পড়ে যাবে

 

ভাইরাসের দ্বারা কি কি ক্ষতি হতে পারে?

কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে 60% মানুষের কম্পিউটারে এই ধরনের ক্ষতিকারক ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু তারা সেটা বুঝতে পারে না কারণ এমন অনেক ভাইরাস রয়েছে যেগুলো আপনাদের কম্পিউটারে সেই রকম ভাবে ক্ষতি করতে পারে না

সাধারণভাবে জোরপূর্বক বিজ্ঞাপন দেখানো এই adware ভাইরাস গুলির প্রধান কাজ কম্পিউটারে ইন্টারনেট কানেক্ট করলেই এই ধরনের ভাইরাস গুলি তাদের কাজ শুরু করে তাই যদি আপনারা আপনাদের কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ না করেন তাহলে আপনাদের কম্পিউটারে এই ধরনের ভাইরাস থাকার কোন অনুভব হবে না

এছাড়াও এমন কিছু malware, trojan, warms রয়েছে যেগুলো আপনাদের কম্পিউটারের সিস্টেম এ ঢুকে বিভিন্ন প্রোগ্রাম ফাইল কে ডেমেজ করতে পারে এছাড়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইলকে ডিলিট করতে পারে এবং এর সাথে সাথে কিছু ক্ষতিকারক ফাইল বানাতে পারে

সাধারণত কম্পিউটার স্লো হওয়া, ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারা, সিস্টেম হ্যাং করা, সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়ার খারাপ হওয়া, কম্পিউটার বারবার রিস্টার্ট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি এই সবকিছু একটি ভাইরাস এর মূল ক্ষতিকারক কাজ

এছাড়াও spyware ভাইরাস আপনাদের কম্পিউটারে ঢুকে আপনাদের কম্পিউটারের পার্সোনাল ডাটা, ফাইল, ব্যাংক একাউন্ট ডিটেলস এবং মিডিয়া চুরি করতে পারে সমস্ত ভাইরাসের মধ্যে এই spyware ভাইরাস সবথেকে বেশি ক্ষতিকারক কারণ এই ভাইরাসটি আপনাদের কম্পিউটার ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণভাবে নজর রাখে

 

সিস্টেমকে Viruses আর Worms থেকে কিভাবে বাঁচিয়ে রাখবেন?

এখানে আমি আপনাদের নিচে এমন কিছু টিপস সম্বন্ধে বলব যেগুলো করার পর আপনাদের এই ভাইরাস থেকে বাঁচিয়ে রাখতে সহজ হবে 

কি করা উচিত

  • আপনাদের সিস্টেমে সর্বদা একটি ভালো অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করবেন আর সেটিকে সময় সময়ে আপডেট করবেন
  • আপনাদের কাছে যদি ইমেইল প্রেরকের সম্বন্ধে কোন তথ্য না থেকে থাকে তাহলে সেই ইমেইলটি খোলা উচিত নয়
  • Unauthorized ওয়েবসাইট থেকে কোন কিছু ডাউনলোড করা উচিত নয় যেমন MP3, Movies, Software ইত্যাদি
  • ডাউনলোড করা সমস্ত জিনিস ভালোভাবে স্ক্যান করুন কারণ এগুলিতে ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে
  • Removable Media যেমন pendrive, disks কে স্ক্যান করার পর ব্যবহার করুন
  • যদি আপনারা কোন ওয়েবসাইটে ভিজিট করেন তাহলে আপনাদের একটি জিনিস খেয়াল রাখতে হবে ওই ওয়েবসাইটপি যেন একটি জনপ্রিয় আর registered হয় আর এমন কোন লিংকে ক্লিক করবেন না যাতে পরবর্তীকালে আপনাদের কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়

কি করা উচিত নয়

  • কখনোই কোনো email attachment খুলবেন না যদি আপনারা সেই ইমেইল প্রেরকের সম্পর্কে না জানেন
  • কোন unsolicited executable files, documents, spreadsheets কে স্ক্যান না করে খোলার চেষ্টা করবেন না
  • Untrusted Websites থেকে ডকুমেন্ট বা executable software ডাউনলোড করবেন না

যদি আপনারা এইসব জিনিস গুলো খেয়াল রাখেন তাহলে আপনাদের কম্পিউটারে কখনোই ভাইরাস ঢুকতে পারবেনা

 

কম্পিউটার থেকে ভাইরাস কিভাবে দূর করবেন?

যদি আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ভাইরাস থেকে থাকে তাহলে সেগুলোকে আপনারা সাধারন কোন এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ডাউনলোড এবং ইন্সটল করে আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে দূর করতে পারবেন

কিন্তু যদি আপনারা ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করেন তাহলে আপনারা ওই ফ্রী এন্টিভাইরাস দিয়ে আপনাদের কম্পিউটার থেকে ভাইরাস ডিলিট বা রিমুভ করতে পারবেন না এর জন্য আপনাদের কোন প্রিমিয়াম এন্টিভাইরাস কিনতে হবে

আপনারা অ্যামাজন বা ফ্লিপকার্ট এর মত অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট থেকে 200 থেকে 500 টাকার মধ্যে ভালো ভালো এন্টিভাইরাস কিনতে পারবেন

একটি কথা অবশ্যই মনে রাখবেন অনেক সময় এই সমস্ত অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারগুলো আপনাদের কম্পিউটার থেকে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস কে বের করতে পারেনা এই ক্ষেত্রে আপনাদের কাছে system restore বা full system format করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না

যদি আপনারা আপনাদের কম্পিউটারে ভাইরাস সমস্যা নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন তাহলে আমার মতে আপনারা একবার আপনাদের সিস্টেমটিকে ফরম্যাট করে নিন

এরপর আপনারা উপরের দেওয়া আমার কথামতো এই সাধারণ জিনিস গুলো খেয়াল রেখে আপনারা আপনাদের কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ভাইরাস ঢুকতে বাধা দিতে পারবেন

আমার শেষ কথা

আশা করছি আজকের এই আর্টিকেলটি কম্পিউটার ভাইরাস কি What is Computer Virus in Bangla আপনাদের অবশ্যই ভাল লেগে থাকবে আমি সর্বদা চেষ্টা করি আমার পাঠকদের সম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করার জন্য যাতে তাদের অন্য কোন ওয়েবসাইটে বা ইন্টারনেটে এই আর্টিকেলটি সম্বন্ধিত তথ্য খোঁজার প্রয়োজন না হয়

বন্ধুরা কম্পিউটার ভাইরাস কি এই বিষয়ে এবার আপনারা বুঝে গিয়েছেন এবার আমি আপনাদের এই টুকুই বলবো যদি আপনাদের কম্পিউটারে পার্সোনাল ডাটা ফাইল থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই সেই ফাইলগুলো কে ভাইরাস থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন

যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তারা অবশ্যই একটি কথা মনে রাখবেন যে কোন ওয়েবসাইট থেকে ফাইল ডাউনলোড করবেন না শুধুমাত্র বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটে গিয়ে সেখান থেকে ফাইল ডাউনলোড করবেন ইন্টারনেট হলো ভাইরাসের মূল ঠিকানা এবং এগুলোর থেকে বেঁচে থাকা অত্যন্ত আবশ্যক

উপরের দেওয়া কথা গুলো খেয়াল রাখবেন এবং আপনাদের কম্পিউটারে এন্টিভাইরাস ব্যবহার করবেন এতে আপনারা সুরক্ষিত থাকবেন এবং আপনাদের কম্পিউটার টিও সুরক্ষিত থাকবে

আশা করছি বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলটি কম্পিউটার ভাইরাস কি পড়ার পর আপনাদের ভালো লেগেছে যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে এই আর্টিকেলটি কে আপনাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে ভুলবেন না আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top
Copy link